হাওরের পানি খেয়ে মহিষের মৃত্যু

সুনামগঞ্জের ছাতকে হাওরের পানিতে ডুব
দিয়ে খাদ্য খাওয়ায় বিষাক্ত তেজস্ক্রিয়ায়
একই পরিবারের ৭টি মহিষের মধ্যে সর্বশেষ
সম্বল মহিষটিও মারা গেছে।শুক্রবার
উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের
বাতিরকান্দি গ্রামের লিলু মিয়ার একমাত্র সম্বল মহিষটি মারা যায়। এর আগে গত ২২ ও
২৪ এপ্রিল সাতটির মধ্যে ৬টি মহিষ মারা
যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার
বাতিরকান্দি গ্রামের মৃত আবদুল কাহার
ওরফে কালা মিয়ার ছেলে লিলু মিয়ার
একমাত্র সম্বল ছিল ৭টি মহিষ।

 

এগুলো দিয়ে তিনি অন্যের জমি বর্গা চাষ করতেন। লিলু
মিয়ার নিজের কোনো জমিজমা না থাকলেও আমন ও বোরো মৌসুমে মহিষের বদৌলতেই
ভাড়াল (গোয়াল) ভর্তি ধান তুলতেন। স্বামী-স্ত্রী, দুই সন্তান, মাতা ও একভাইসহ
৬ সদস্যের পরিবার চলতো সুখেও
স্বাচ্ছন্দ্যে। কিন্তু হঠাৎ করে এসুখী
পরিবারের উপর বজ্রপাত যেন আঘাত হানলো।
একপর্যায়ে গত ২২ ও ২৪এপ্রিল ৭টির মধ্যে
৬টি মহিষ মারা যায়। সর্বশেষ শুক্রবার বেঁচে থাকা অপর মহিষটিও মারা গেছে। ৭টি মহিষ হারিয়ে লিলু মিয়া এখন পরিবার
নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন যাপন করছেন।
কৃষক লিলু মিয়া জানান, চিরাচরিত নিয়মে
গ্রামের পার্শ্ববর্তী নাইন্দার হাওরে
পানিতে ডুব দিয়ে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে
পর্যায়ক্রমে এগুলো অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করতে থাকে। মারা যাওয়ার আগে পেট ফুলেও ১০৭
ডিগ্রির উপরে জ্বর থাকে। মারা যাওয়ার পর
পায়খানার রাস্তাও মূখ দিয়ে রক্ত বের হয়। এ ব্যাপারে লিলু মিয়ার চাচাতো ভাই গোলাম
মোস্তফা তালুকদার জানান, মহিষগুলো ছিল
তার পরিবারের ব্যয় নির্বাহে একমাত্র
অবলম্বন। কিন্তু সবগুলো মহিষ মারা যাওয়ায়
পরিবারের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে সহায়তার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা
প্রশাসকসহ সরকারের প্রাণিসম্পদ বিভাগের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা
করছেন তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার
ডাক্তার ছাইফুল ইসলাম এবং ভেটেরিনারি
সার্জন ডাক্তার আবদুস শহিদ হোসেন বলেন,
২৭ এপ্রিল ঢাকা থেকে একটি তদন্তদলের
সদস্যরা এসে জীবিত মহিষটিকে পরীক্ষা-
নিরীক্ষা করে দেখেছেন। কিন্তু এটি মারা যাওয়ায় শুক্রবার মহিষের বিভিন্ন অঙ্গ-
প্রত্যক্ষ কেটে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে আসা
হয়েছে।

Share

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *